## যারা এখনো সফল হয়নি তাদের জন্য আজকের এই লিখা। শেষ পর্যন্ত পড়ার আহবান করছি। ভাল- মন্দ মন্তব্য করার অধিকার আপনাদের....
** লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে হাল ছাড়া যাবে না।
"ব্যার্থ হলে দায় আপনার, সফল হলে সারা দুনিয়া আপনার"।।
আমি আমার জীবনের বাস্তব একটি ঘটনা দিয়ে বলি একবার মামার বাড়ি শিদলাই থেকে খালাত ভাই নিয়ে নাগাইশ যাই বড় খালার বাড়ি। নাগাইশ থেকে আরো দুজন খালাত ভাই নিয়ে সকাল বেলা হাটতে হাটতে শশীদল রেল স্টেশন দেখতে যাই। শশীদল গিয়ে পূর্ব দিকে সাড়ি সাড়ি ইন্ডিয়ার পাহাড় দেখে প্রচন্ড আগ্রহ হলো ইন্ডিয়া ঢোকার। তখন কাটাতারের বেড়া হয়নি। রেল স্টেশন থেকে পূর্বে আশাবাড়ি। আশাবাড়ি হয়ে রহিমপুর বাজার দিয়ে ইন্ডিয়া ঢুকে পড়ি। পাহাড়ের উপর থেকে হঠাৎ নজর পড়ে ইন্ডিয়ার গভীর জংগলের ভীতর একটা আগুন জ্বলে।
আগুনের লেলিহান শিখা আমাকে খুব মুগ্ধ করল। আমি আমার সঙ্গীদের বললাম চল ওই আগুনটার কাছে যাই। দেখি ওটা কিসের আগুন। কোথা থেকে উঠে। ওরা প্রথমে রাজি না হলেও আমার যাওয়ার ইচ্ছা আর সাহস দেখে রাজি হয়। অতঃপর আমরা হাটতে থাকি। পাহাড়ের পর পাহাড় হাটছি। পাহাড়ি ফল, মূল, খাচ্ছি। লজ্জাবতি গাছ, তোমকা গাছ, চেনা অচেনা বাহারি রঙের ফুল ছিড়া ছিড়ি। তখন আসলে বয়স খুব একটা বেশী না। সিক্স এ পড়ি। দুষ্টমিতে বেশ পাকা। এটা সেটা করতে করতে এগিয়ে চলছি।
লক্ষ করলাম সামনের দুটি পাহাড় পেরুলেই আগুনের পাহাড়।
গিয়ে দেখি না আরো সামনে দুটি পাহাড় আছে। এভাবে সামনের দিকে হাটছি আগুন দেখা যায়। আর মাত্র একটি পাহাড়, কিন্তু না আগুন পরের পাহাড়ের নীচে। মনে হয় আর একটা পাহাড় পেরুলে আগুনটার কাছে যেতে পারব। ওই পাহাড়ে গিয়ে দেখি না আরও একটা পাহাড় আছে ওটা পেরুলেই আগুনের পাহাড়। এভাবে কম পক্ষে আমি বিশ ত্রিশটা পাহাড় পারহয়ে গেছি। সাথীরা কেউ যেতে রাজিনা। ওরা বলছে ঐ পাহাড় দূর আছে। আমি বলছি না আর একটা পাহাড় চল.. ওটা পার হলে পেয়ে যাব আগুন। এভাবে এক এক করে আরো কয়েকটি পাহাড় পার হলাম। কিন্তু আগুনের পাহাড়ের কাছে যেতে পারছিনা। যত যাই ততই নিকটে আসে, মনে হয় আর একটি মাত্র পাহাড় পার হলেই আগুনের দেখা পাব। চলতে চলতে একসময় পায়ের শক্তি মনের শক্তি দুটোই কমে আসল। আমি আর এগুলাম না।আগুন আমার কাছে অধরাই রয়েগেল। বুঝতে পারলাম অজানা ঐ পাহাড় বহু দূর।
এবার ফেরার পালা। পিছু হাটতে শুরু করলাম। সাথীরা সবায় সবারমত করে আমায় গালমন্দ করল। আমি ওদের কথায় কিছু মনে না করে পথ চলছি আর ভাবছি ইস আর একটু এগুলে আগুনের পাহাড়টা দেখে আসতাম। এত কাছ থেকে চলে যাচ্ছি। আমার মনে শুধু ঐ আগুনের পাহাড় নিয়ে কল্পনা। হাটতে হাটতে
কিছুক্ষন পর সবায় একটি পাহাড়ের উপর শুয়ে পড়ল। পেটে ক্ষুধা, খুবই ক্লান্ত, আর হাটতে পারছে না কেউ। আমিও ক্লান্ত তবে ভয়ে কিছু বলছিনা। আর কতটা পাহাড় রয়েছে বুঝতেও পারছিনা। টার্গেট শুধু রহিম পুরের বাজার। বাজারে আসতে পারলেই হবে। হাটতে হাটতে পায়ে ঠোসা পড়ে গেছে বিকাল ঘনিয়ে সন্ধা হয়ে গেছে প্রকৃতিতে অন্ধকার নেমে আসছে। বেশ খানিকটা দূর পাহাড়ের উচু টিলা থেকে কুপির আলো জ্বালানো বাতি দেখতে পেলাম। বাতির আলো দেখে মনে ভরসা পেলাম। সাথীরা সবায় বলল ওই দেখা যায় রহিমপুরের বাজার। ততক্ষনে আরো কয়েকটি পাহাড় পেরুতে হয়েছে। এভাবে অনেক কষ্টে রহিমপুর বাজারে ফিরে আসলাম।
শিক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে -
আগুনটাকে লক্ষ করে পথ চলাটা তেমন কষ্টের বিষয় ছিলনা। ওখানে লক্ষ্য ছিল একটি আগুনের কুন্ডলি। কতটা পাহাড় হাটছি ওটা মাথায় ছিলনা। কিন্তু লক্ষ্যহীন পথে বাড়ির পানে ফেরাটা ছিল বহু কষ্টের।
জীবনে সফল হওয়ার জন্য এমনি একটি আগুনের কুন্ডলীকে লক্ষ্য করুন। পথের কাটা সাপ বিচ্ছু বাঘ আর শিয়ালের ভয় কিছু আপনাকে রুখতে পারবে না।
পায়ের ঠোসা, পেটের ক্ষুধা কিছুই মনে থাকবে না। দেখবেন অনেক বড় বড় সমস্যার পাহাড় ডিঙ্গিয়ে ঐ লাল ধবধবে প্রজ্বলিত অগ্নিশিখার দ্বারে আপনি পৌঁছে গেছেন।
লক্ষহীন জীবন কান্ডারী বিহীন নৌকার মতন। একটি স্হির লক্ষ্যই সাফল্যের সোপান।
আপনি যখন একটি বিষয়কে টার্গেট করে পথ চলবেন তখন দেরি হলেও ঐ পথে হাটুন। দেখবেন আপনি শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন। কতজনের পেছনে পড়ে আছেন কত লোক আপনাকে ছাড়িয়ে গেছে ওটা ভূলে যান। আপনি লাইনে থাকেন ট্রেইনের সর্বশেষ বগির মত স্টেশনে আপনিও পৌঁছাবেন। লাইন ছেড়ে দিলে ছেড়া বগির মতন পথে প্রান্তরে পড়ে রবেন। কেউ অপেক্ষা করবেনা। ফিরে তাকাবে, তোলে নিবে না। জগতের মানুষগুলো বড়ই অদ্ভুত। আপনি সমানে সমান থাকতে পারলে হাত তালি। নয় কপালে কালি। ব্যার্থতার দায় কেউ নিতে চায়না ওটা আপনার একার। সফল হলে আপনি সবার, সারা দুনিয়ার।
আমি বিফল তাই আমার জীবনের দায়ভার আমার। ঐ নিরব নির্ঝন গহীন অরন্যের আগুনের খুব কাছাকাছি গিয়ে তাকে স্পর্শ না করার মত ব্যার্থতা আমাকে বহুবার ঘিরে ধরেছে। আমি দমে যাইনি। পড়ে গিয়েও লড়ে চলেছি। এখনো লড়ছি। ভরসা উপর ওয়ালার- চেষ্টা পরিশ্রম সব আমার/ আপনার/ আমাদের সবার।
আব্রাহাম লিংকনের ভাষায়-
পরাজয় মানে সমাপ্তি নয়,,,,যাত্রা একটু দীর্ঘ হওয়া মাত্র......
লেখক - এন এ মুরাদ
** লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে হাল ছাড়া যাবে না।
"ব্যার্থ হলে দায় আপনার, সফল হলে সারা দুনিয়া আপনার"।।
আমি আমার জীবনের বাস্তব একটি ঘটনা দিয়ে বলি একবার মামার বাড়ি শিদলাই থেকে খালাত ভাই নিয়ে নাগাইশ যাই বড় খালার বাড়ি। নাগাইশ থেকে আরো দুজন খালাত ভাই নিয়ে সকাল বেলা হাটতে হাটতে শশীদল রেল স্টেশন দেখতে যাই। শশীদল গিয়ে পূর্ব দিকে সাড়ি সাড়ি ইন্ডিয়ার পাহাড় দেখে প্রচন্ড আগ্রহ হলো ইন্ডিয়া ঢোকার। তখন কাটাতারের বেড়া হয়নি। রেল স্টেশন থেকে পূর্বে আশাবাড়ি। আশাবাড়ি হয়ে রহিমপুর বাজার দিয়ে ইন্ডিয়া ঢুকে পড়ি। পাহাড়ের উপর থেকে হঠাৎ নজর পড়ে ইন্ডিয়ার গভীর জংগলের ভীতর একটা আগুন জ্বলে।
আগুনের লেলিহান শিখা আমাকে খুব মুগ্ধ করল। আমি আমার সঙ্গীদের বললাম চল ওই আগুনটার কাছে যাই। দেখি ওটা কিসের আগুন। কোথা থেকে উঠে। ওরা প্রথমে রাজি না হলেও আমার যাওয়ার ইচ্ছা আর সাহস দেখে রাজি হয়। অতঃপর আমরা হাটতে থাকি। পাহাড়ের পর পাহাড় হাটছি। পাহাড়ি ফল, মূল, খাচ্ছি। লজ্জাবতি গাছ, তোমকা গাছ, চেনা অচেনা বাহারি রঙের ফুল ছিড়া ছিড়ি। তখন আসলে বয়স খুব একটা বেশী না। সিক্স এ পড়ি। দুষ্টমিতে বেশ পাকা। এটা সেটা করতে করতে এগিয়ে চলছি।
লক্ষ করলাম সামনের দুটি পাহাড় পেরুলেই আগুনের পাহাড়।
গিয়ে দেখি না আরো সামনে দুটি পাহাড় আছে। এভাবে সামনের দিকে হাটছি আগুন দেখা যায়। আর মাত্র একটি পাহাড়, কিন্তু না আগুন পরের পাহাড়ের নীচে। মনে হয় আর একটা পাহাড় পেরুলে আগুনটার কাছে যেতে পারব। ওই পাহাড়ে গিয়ে দেখি না আরও একটা পাহাড় আছে ওটা পেরুলেই আগুনের পাহাড়। এভাবে কম পক্ষে আমি বিশ ত্রিশটা পাহাড় পারহয়ে গেছি। সাথীরা কেউ যেতে রাজিনা। ওরা বলছে ঐ পাহাড় দূর আছে। আমি বলছি না আর একটা পাহাড় চল.. ওটা পার হলে পেয়ে যাব আগুন। এভাবে এক এক করে আরো কয়েকটি পাহাড় পার হলাম। কিন্তু আগুনের পাহাড়ের কাছে যেতে পারছিনা। যত যাই ততই নিকটে আসে, মনে হয় আর একটি মাত্র পাহাড় পার হলেই আগুনের দেখা পাব। চলতে চলতে একসময় পায়ের শক্তি মনের শক্তি দুটোই কমে আসল। আমি আর এগুলাম না।আগুন আমার কাছে অধরাই রয়েগেল। বুঝতে পারলাম অজানা ঐ পাহাড় বহু দূর।
এবার ফেরার পালা। পিছু হাটতে শুরু করলাম। সাথীরা সবায় সবারমত করে আমায় গালমন্দ করল। আমি ওদের কথায় কিছু মনে না করে পথ চলছি আর ভাবছি ইস আর একটু এগুলে আগুনের পাহাড়টা দেখে আসতাম। এত কাছ থেকে চলে যাচ্ছি। আমার মনে শুধু ঐ আগুনের পাহাড় নিয়ে কল্পনা। হাটতে হাটতে
কিছুক্ষন পর সবায় একটি পাহাড়ের উপর শুয়ে পড়ল। পেটে ক্ষুধা, খুবই ক্লান্ত, আর হাটতে পারছে না কেউ। আমিও ক্লান্ত তবে ভয়ে কিছু বলছিনা। আর কতটা পাহাড় রয়েছে বুঝতেও পারছিনা। টার্গেট শুধু রহিম পুরের বাজার। বাজারে আসতে পারলেই হবে। হাটতে হাটতে পায়ে ঠোসা পড়ে গেছে বিকাল ঘনিয়ে সন্ধা হয়ে গেছে প্রকৃতিতে অন্ধকার নেমে আসছে। বেশ খানিকটা দূর পাহাড়ের উচু টিলা থেকে কুপির আলো জ্বালানো বাতি দেখতে পেলাম। বাতির আলো দেখে মনে ভরসা পেলাম। সাথীরা সবায় বলল ওই দেখা যায় রহিমপুরের বাজার। ততক্ষনে আরো কয়েকটি পাহাড় পেরুতে হয়েছে। এভাবে অনেক কষ্টে রহিমপুর বাজারে ফিরে আসলাম।
শিক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে -
আগুনটাকে লক্ষ করে পথ চলাটা তেমন কষ্টের বিষয় ছিলনা। ওখানে লক্ষ্য ছিল একটি আগুনের কুন্ডলি। কতটা পাহাড় হাটছি ওটা মাথায় ছিলনা। কিন্তু লক্ষ্যহীন পথে বাড়ির পানে ফেরাটা ছিল বহু কষ্টের।
জীবনে সফল হওয়ার জন্য এমনি একটি আগুনের কুন্ডলীকে লক্ষ্য করুন। পথের কাটা সাপ বিচ্ছু বাঘ আর শিয়ালের ভয় কিছু আপনাকে রুখতে পারবে না।
পায়ের ঠোসা, পেটের ক্ষুধা কিছুই মনে থাকবে না। দেখবেন অনেক বড় বড় সমস্যার পাহাড় ডিঙ্গিয়ে ঐ লাল ধবধবে প্রজ্বলিত অগ্নিশিখার দ্বারে আপনি পৌঁছে গেছেন।
লক্ষহীন জীবন কান্ডারী বিহীন নৌকার মতন। একটি স্হির লক্ষ্যই সাফল্যের সোপান।
আপনি যখন একটি বিষয়কে টার্গেট করে পথ চলবেন তখন দেরি হলেও ঐ পথে হাটুন। দেখবেন আপনি শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন। কতজনের পেছনে পড়ে আছেন কত লোক আপনাকে ছাড়িয়ে গেছে ওটা ভূলে যান। আপনি লাইনে থাকেন ট্রেইনের সর্বশেষ বগির মত স্টেশনে আপনিও পৌঁছাবেন। লাইন ছেড়ে দিলে ছেড়া বগির মতন পথে প্রান্তরে পড়ে রবেন। কেউ অপেক্ষা করবেনা। ফিরে তাকাবে, তোলে নিবে না। জগতের মানুষগুলো বড়ই অদ্ভুত। আপনি সমানে সমান থাকতে পারলে হাত তালি। নয় কপালে কালি। ব্যার্থতার দায় কেউ নিতে চায়না ওটা আপনার একার। সফল হলে আপনি সবার, সারা দুনিয়ার।
আমি বিফল তাই আমার জীবনের দায়ভার আমার। ঐ নিরব নির্ঝন গহীন অরন্যের আগুনের খুব কাছাকাছি গিয়ে তাকে স্পর্শ না করার মত ব্যার্থতা আমাকে বহুবার ঘিরে ধরেছে। আমি দমে যাইনি। পড়ে গিয়েও লড়ে চলেছি। এখনো লড়ছি। ভরসা উপর ওয়ালার- চেষ্টা পরিশ্রম সব আমার/ আপনার/ আমাদের সবার।
আব্রাহাম লিংকনের ভাষায়-
পরাজয় মানে সমাপ্তি নয়,,,,যাত্রা একটু দীর্ঘ হওয়া মাত্র......
লেখক - এন এ মুরাদ

No comments